Popular Diagnostic center, Dhanmondi

Best Colorectal and Gastroenterology Centre (BCGC)

Popular Diagnostic Cernter, Narayangonj

Call for Appointment

Fistula – মলদ্বারের ফিস্টুলা বা ভগন্দর

ফিস্টুলাকে বাংলায় ভগন্দর বলা হলেও এর সহজ বাংলা হল নালী। মলদ্বারের ভেতরের সাথে বাহিরের নালী তৈরি হওয়াকে বলা হয় ফিস্টুলা। ফিস্টুলা একটি অতি প্রাচীন রোগ। ২০০০ বছর পুর্বের বই-পুস্তকেও ফিস্টুলা সম্পর্কে আলোচনা পাওয়া গেছে। সাধারনত মলদ্বারের পাশের গ্রন্থি (Anal gland) বন্ধ ও সংক্রমিত হয়ে বিষফোঁড়া হয় এবং বিষফোঁড়া ফেটে গিয়ে নালী তৈরী করে। মলদ্বারে বিষফোঁড়া হওয়া রোগীদের শতকরা ৫০ ভাগ রোগীর ফিস্টুলা হয়। অনেক সময় ফিস্টুলা এবং বিষফোঁড়া একই সাথে প্রকাশ পায়।  এছাড়া মলদ্বারের যক্ষা, বৃহদন্ত্রের প্রদাহ এবং মলদ্বারের ক্যান্সার থেকে ফিস্টুলা হয়। বাচ্চাদের সাধারনত ফিস্টুলা হয় না। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতি ১০০,০০০ লোকের মধ্যে ৮-৯ জন ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত। মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা (প্রায় দ্বিগুন) বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

রোগী ব্যথা, মলদ্বারের পাশে ফোলা এবং স্বতস্ফূর্তভাবে ফেটে গিয়ে পুঁজ-পানি ঝরা কিংবা বিষফোঁড়ার জন্যে পুর্বে অপারেশন এর ইতিহাস নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। পুঁজ-পানি পড়লে ব্যথা কমে যায় এবং রোগী আরাম বোধ করেন এবং কিছুদিনের জন্যে রোগী ভালো হয়ে যান। রোগটি ২-৩ মাস সুপ্ত থেকে আবার দেখা যায়। সুপ্তাবস্থায় রোগী ভাবেন যে তিনি ভালো হয়ে গিয়েছে, একারনে চিকিৎসকের কাছে আসেন না। অনেক রোগী দেখা যায় ব্যথার সময় এলাকার ফার্মেসী থেকে এন্টিবায়োটিক এবং ব্যথার ঔষধ কিনে খান, ব্যথা ভালো হলে ভুলে যান। এভাবে চক্রাকারে বছরের পর বছর চলতে থাকে। অনেকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেন। জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে আসেন।

ফিস্টুলা যেহেতু একটি নালি তাই এর দুইটি মুখ থাকে। একটি মলদ্বারের ভেতরে একটি বাহিরে। নালিটির গতিপথ এর উপর ভিত্তি করে আমেরিকান গ্যাস্ট্রএন্টারোলজিক্যাল এসোসিয়েশন ফিস্টুলাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। যথা-

  • সরল ফিস্টুলা – যে সকল ফিস্টুলার মুখ মলদ্বারের অল্প ভেতরে তাকে সহজ ফিস্টুলা বলে। এক্ষেত্রে মলদ্বারের মাংসপেশী অল্প সম্পৃক্ত হয় ,কোন কোন ক্ষেত্রে একেবারেই হয় নয়া।
  • জটিল ফিস্টুলা – যে সকল ফিস্টুলার মুখ মলদ্বারের গভীরে, কিংবা ফিস্টুলার শাখা-প্রশাখা রয়েছে অথবা ফিস্টুলার সাথে অন্যান্য অঙ্গের (যেমন – মুত্রথলি, যোনিপথ ) সংযোগ রয়েছে তাকে জটিল ফিস্টুলা বলে। জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে মলদ্বারের মাংসপেশী বেশি পরিমানে সম্পৃক্ত হয়। অপারেশনের পর পুনরায় হওয়া ফিস্টুলা, মলদ্বারের যক্ষা, বৃহদন্ত্রের প্রদাহ এবং মলদ্বারের ক্যান্সার থেকে হওয়া ফিস্টুলা সাধারনত জটিল ফিস্টুলা হয়ে থাকে। অনেক সময় এ ধরনের ফিস্টুলার ক্ষেত্রে বাহিরে একাধিক মুখ থাকতে পারে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর সমস্যা শুনে, মলদ্বার দেখে ও মলদ্বারে আঙুল দ্বারা পরীক্ষা করে ফিস্টুলা রোগটি নির্ণয় করা যায়। মলদ্বারের যক্ষা, বৃহদন্ত্রের প্রদাহ এবং মলদ্বারের ক্যান্সার থেকে ফিস্টুলা এসব সন্দেহ করলে চিকিৎসকরা কোলনোস্কপি করে থাকেন। এছাড়া জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে এমআরআই, মলদ্বারের ভেতরের আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইত্যাদি পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়।

Subtitle for This Block

Title for This Block

Text for This Block

ফিস্টুলা এমন একটি রোগ যার অপারেশন ভিন্ন অন্য কোন চিকিৎসা নেই। প্রকৃতিগত ভাবেই মানুষ অপারেশন ভয় পায়। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু রোগীদের প্রতারিত করে থাকে। তাদের অপ চিকিৎসা রোগটির জটিলতা বৃদ্ধি করে।

হিপক্রেটিস (আনুমানিক ৪৩০ খৃস্টপূর্ব ) সর্বপ্রথম ফিস্টুলার সার্জিক্যাল চিকিৎসা করেন বলে বইপত্রে উল্ল্যেখ পাওয়া যায়। ১৯ শতকের শেষ থেকে ২০ শতকের শুরুর দিকে গুডসেল, মাইলস, মিলিগ্যান এবং মরগ্যান, থম্পসন প্রমুখ সার্জনগন ফিস্টুলা চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭৬ সালে পার্কস ফিস্টুলার যে শ্রেণীবিভাগ করেন সেটি এখনও সর্বজনবিদিত। পরবর্তিতে ফিস্টুলা চিকিৎসায় বহু পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে, কিন্তু কোনটি শ্রেষ্ঠ বা যথাযথ সে বিষয়ে চিকিৎসকরা এখনও ঐক্যমতে আসতে পারেননি।

বর্তমানে ফিস্টুলা চিকিৎসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত অপারেশন পদ্ধতিগুলো হচ্ছে-

  • ফিস্টুলোটোমি
  • ফিস্টুলেকটোমি
  • সিটন পদ্ধতি
  • ফিস্টুলা প্লাগ
  • ফিস্টুলা গ্লু
  • ফ্ল্যাপ ব্যবহার
  • রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার
  • লেজার ব্যবহার
  • স্টেম সেল ব্যবহার
  • মলদ্বারের মাংসপেশির মাঝখানের নালি বন্ধ করে দেয়া
  • এন্ডোস্কোপিক ফিস্টুলা সার্জারি

এগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটি বহূল ব্যবহৃত। বাকিগুলো বিশেষ ক্ষেত্রে কিংবা অতি জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পদ্ধতি যাই হোক না কেন ফিস্টুলার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কয়েকটি  বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয় যেমন- সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, ফিস্টুলা নালীটি বন্ধ করা এবং মল ধরে রাখার ক্ষমতা বজায় রাখা। ফিস্টুলা চিকিৎসার অন্যতম দিক হল অপারেশনের পর ফিস্টুলা পুনরাবৃত্তি না হওয়া এবং মল ধরে রাখার ক্ষমতা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

সাধারনত কোমরের নিচ থেকে অবশ করে অপারেশন করা হয়। ১-২ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। ফিস্টুলা অপারেশনের পর ঘা শুকাতে ৪-৬ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে সিটন পদ্ধতিতে ২-৩ ধাপে অপারেশন করা হয়। প্রতিটি ধাপ এর মাঝে ৭-১০ দিন বিরতি দেয়া হয়। এই সময় নিয়মিত ড্রেসিং করা প্রয়োজন। ড্রেসিং অপারেশনের পর পুনরায় ফিস্টুলা হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

একথা সত্য যে ফিস্টুলা অপারেশনের পর আবার হতে পারে। বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞদের মতে অপারেশনের পর ফিস্টুলা পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৩-৭ ভাগ। জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে এটি শতকরা ৪০ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে। তবে এক কথায় জবাব দেয়া সম্ভব নয় ফিস্টুলা অপারেশনের পর পুনরায় হবে কিনা। ফিস্টুলার ধরন, সার্জনের অভিজ্ঞতা এবং অপারেশনের পরবর্তী যত্নের উপর ফিস্টুলা অপারেশনের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

পরিশেষে বলা যায় যে, ফিস্টুলা রোগটির চিকিৎসা সম্ভব এবং সঠিক চিকিৎসায় ফিস্টুলা ভালো হয়। রোগ নিয়ে লজ্জা না পেয়ে চিকিৎসকের সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন, সুস্থ থাকুন।

Fistula treatment in Bangladesh.

Best fistula treatment and solution by Dr. Mir Rasekh Alam OVI. He is also the best fistula surgeon in Dhaka also in Bangladesh