বিরক্তিকর পেটের সমস্যা (Irritable Bowel Syndrome)



মামুন সাহেব (বয়স ৩৯ ) ব্যাংকে ভালো চাকুরী করেন, ছাত্র জীবনে ভাল খেলোয়াড় ছিলেন। সময়ের সাথে অফিসে ও পরিবারে চাপ বেড়ে চলেছে। হঠাৎ তার পেটের সমস্যা। খাওয়া ঠিকমত হজম হয় না, মাঝে মাঝে ব্যথা, পেটে গ্যাস এবং পায়খানার সমস্যা। দিন দিন ওজনও কমছে। তিনি বহু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন কিন্তু তার রোগের উন্নতি হয়নি। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও কোন রোগ ধরা পড়েনি। এত তার দুঃশ্চিন্তা আরও বেড়ে চলেছে এবং অত্যন্ত বিরক্তিকর অবস্থায় তিনি জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসকদের কাছে পরিপাকতন্ত্রের এরূপ সমস্যা নিয়ে বহু রোগী আসেন। এই রোগটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বলা হয়। সহজ বাংলায় একে দীর্ঘমেয়াদী আমাশয় বা বিরক্তিকরপেটেরসমস্যাবলাযেতেপারে।
সারা বিশ্বে শতকরা ১১ জন এই রোগে ভুগে থাকেন। মহিলারা পুরুষদের তুলনায় সামান্য বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। যদিও যে কোন বয়সের ব্যক্তিই আইবিএস-এ আক্রান্ত হতে পারেন তবুও কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকালে আইবিএস বেশি হয়ে থাকে এবং ৫০ বৎসর বয়সের পর এ রোগের প্রাদূর্ভাব কিছুটা কম।
এই রোগের লক্ষণ সমূহ রোগীভেদে বিভিন্ন হতে পারে এবং অনেক সময় অন্য রোগের অনুরূপ বলে মনে হয়। তন্মদ্ধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়-
- পেটে ব্যথা ( সাধারনত খাবার পর পেট কামড়িয়ে ব্যথা হয় এবং পায়খানা হওয়ার পর আরাম বোধ হয় )
- পেট ফোলা ফোলা অনুভূত হওয়া
- পেটে গ্যাস
- ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনও কখনও দুটোই
- মলদ্বারে শ্লেষ্মা বা পিচ্ছিল পদার্থ যাওয়া
- অতিরিক্ত বায়ু ত্যাগ
- অসম্পুর্ণ মলত্যাগ
- দ্রুত বাথরুমে যাওয়ার অনুভূতি
আইবিএস কোষ্ঠকাঠিন্য – প্রধান, ডায়রিয়া – প্রধান অথবা দুটোর সংমিশ্রণ হতে পারে। আমাদের দেশে ডায়রিয়া – প্রধান রোগ বেশি দেখা যায়। প্রধান সমস্যাগুলোর পাশাপাশি কেউ কেউ ক্লান্তি, উদ্যমহীনতা, দুঃশ্চিন্তা, পিঠে ব্যাথা, প্রস্রাবের সমস্যা এবং অসুস্থতা বোধ করেন। অধিকাংশ রোগীরই কিছুদিনের জন্যে সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে ওঠে এবং কিছুদিন পর কমে যায় অথবা সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে খাবার বা পানীয় সমস্যার সূত্রপাত করে। এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক খাবার বা পানীয় পেটে সহ্য হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমস্যা করে এরূপ খাবারগুলো হল –
- তেলসমৃদ্ধ খাবার (পোলাও, বিরিয়ানী ইত্যাদি )
- ভাজাপোড়া খাবার ( পুরি, সিঙ্গারা, চপ ইত্যাদি )
- শাক
- চা, কফি ( ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয়)
- কোমল পানীয় (কার্বনেটেড ড্রিকংস)
- মচমচে খাবার (চিপস, বিস্কুট)
- চকলেট
- মদ
এটিকে পেটের কার্যগত রোগ বলে। অর্থাৎ পেটের গঠনগত কোন সমস্যা বা ত্রুটি না থাকার পরও পেটের সমস্যা অনুভূত হওয়া। আইবিএস এর যথাযথ কারন অজানা, তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন এটি বদহজম এবং অন্ত্রের অতিসংবেদনশীলতার (HypersensitivityHypersensitivity) জন্যে হয়ে থাকে।
এ কারনে আইবিএস কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এর মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা রোগীর সমস্যা শুনে রোগ নির্নয় করে থাকেন। তবে আইবিএস এর সমস্যাগুলোর সাথে যদি অতিরিক্ত ওজন হ্রাস, পেটে চাকা, মলের সাথে রক্ত, রক্তশূন্যতা কিংবা পরিবারের কারও অন্ত্রে ক্যান্সার এর ইতিহাস থাকে সেক্ষেত্রে কোলোনোস্কপি করার প্রয়োজন হয়। আইবিএস রোগীরা আইবিএস এর সাথে সাথে এনাল ফিসার, রেক্টাল প্রোলাপ্স এবং পাইলস এ আক্রান্ত হতে পারেন।
এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। রোগের প্রকৃতি অনুধাবন করা চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রোগের সাথে মানিয়ে নেয়ার মাধ্যমে আইবিএস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক যদি রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল বুঝিয়ে বলেন তবে রোগী উপকৃত হন।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন আইবিএস চিকিৎসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু বিভিন্ন রোগী বিভিন্ন খাদ্যে সমস্যা বোধ করেন তাই রোগীকেই খেয়াল রাখতে হবে তার কোন কোন খাবারে সমস্যা হয় এবং সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। তারপরও কিছু সাধারন নির্দেশনা রয়েছে।
- নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ এবং সময় নিয়ে খাওয়া
- দুইবার খাবার গ্রহণের মাঝখানে বেশিক্ষণ বিরতি না দেয়া
- প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি খাওয়া
- চা, কফি কম খাওয়া ( দৈনিক ৩ কাপ এর বেশি নয়)
- কোমল পানীয় বা মদ পরিহার করা
- ফল কম খাওয়া ( একবারে একটি আপেল বা অর্ধেক কমলা )
- দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার (ঘি, মাখন, পায়েস, মিষ্টি ইত্যাদি) এড়িয়ে চলা
- যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য – প্রধান রোগ তারা ওটস, বার্লি, রাই, কলা, আপেল, গাজর, আলু, সুবর্ণ তিসি ইত্যাদি খাবার এবং পানি বেশি খাবেন
- যাদের ডায়রিয়া – প্রধান রোগ তারা ফল ও সবজীর খোসা, শাঁস ও বিচি, শস্য জাতীয় খাবার, তুষ, সিরিয়াল, বাদাম, বীজ ইত্যাদি এড়িয়ে চলবেন
আইবিএস এর সাথে মনরোগ এর কিছু উপাদান পাওয়া যায়। দেখা যায় যে যারা অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপে থাকেন তাদের আইবিএস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাক এবং এদের অনেকে পরীক্ষা কিংবা চাকুরীর সাক্ষাৎকারের পূর্বে আইবিএস এর সম্মুখীন হন। তবে এটি মনে করা ঠিক নয় যে তাদের সমস্যাটি কেবলমাত্র মানসিক কারন সত্য সত্যই তাদের পেটে সমস্যা হয়। একারনে মানসিক চাপ মুক্ত থাকা আইবিএস চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেডিটেশন, ইয়োগা ইত্যাদি করে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকা যায়। প্রয়োজনে মনোরোগবিদের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম অনেক রোগীর ক্ষেত্রে আইবিএস নিয়ন্ত্রন করতে সহায়তা করে। সাইকেল চালানো, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি ব্যায়াম করা যেতে পারে। সপ্তাহে অন্তত্য ১৫০ মিনিট গা ঘামানো ব্যায়াম করা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক চাপ মুক্ত থাকতেও সাহায্য করে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ঔষধ ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রোবায়োটিক, এন্টি-স্পাজমটিক, লেক্সেটিভ, এন্টি-মটিলিটি ঔষধ, মানসিক বিষণ্নতার প্রতিক্রিয়া লাঘব করার জন্য ব্যবহৃত ঔষধ ইত্যাদি ঔষধ আইবিএস চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
আইবিএস চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী এবং চিকিৎসক উভয়ের ধৈর্য্য প্রয়োজন। চিকিৎসক সময় নিয়ে রোগীর সাথে রোগ সম্পর্কে আলোচনা করলে রোগী সাহস পান যে তার রোগটি কঠিন কোন রোগ নয় এবং এর চিকিৎসা রয়েছে। রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত, সুশৃঙ্খল ও মানসিক চাপ মুক্ত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে আইবিএস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
IBS treatment in bangladesh
Dr. Mir Rasekh Alam Ovi is know as best IBS treatment surgeon in Bangladesh. He is the chef surgeon in Dhaka medical college.
আবাসিক সার্জন (সার্জারি) DMC
এমবিবিএস (ডিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এফসিপিএস (সার্জারি), এফসিপিএস (কলোরেক্টাল সার্জারি) এফএমএএস (ইন্ডিয়া), এফএসিএস (ইউএসএ)
মেম্বার, আমেরিকান সোসাইটি অব কোলন এন্ড রেক্টাল সার্জনস
মেম্বার, ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কলোপ্রক্টোলজি